আমরা মানুষ, রক্ত মাংসে গড়া স্বাধীন চেতনা সম্পন্ন উন্নত প্রাণী। আমরা যন্ত্র নই। কিন্তু রক্ত মাংস ও স্বাধীনচেতা মননের যিনি স্রষ্টা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায়ের পালা যখন আসে তখনই যান্ত্রিকতা আমাদের ধাওয়া করতে থাকে।

সেই অযু করা থেকেই শুরু। হাতের আঙ্গুল, মুখ, নাক কনুই পর্যন্ত হাত অথবা মাথা মাসাহ করার সময় থেকে নিয়ে পা ধোয়া পর্যন্ত শুধু ধুলোবালি সাফেই মগ্ন থাকে হাত দুটি আর মনটা তখনো দুনিয়ার কাজের ভিড়ে হারিয়ে থাকে।

ইস! যদি ধুলোবালির সাথে সাথে আমার ধৌতকৃত প্রতিটি অঙ্গের পাপ সমূহ এমন ধুয়ে যেতো- কতইনা ভালো হত। সে সুযোগও ছিল। শুধু একটু চাওয়া, তাঁর কাছে যিনি দিতে ক্লান্ত হন না।

আসুন না
সালাতে একটু যত্নবান হই। আমাদের সালাতকে একটু পরিপাটি করে সাজাই। আন্তরিক ও গুনাহ বিধৌতকরনে সক্ষম অযু দিয়েই শুরু হোক পরিশুদ্ধ
সালাতের পথচলা।

এরপর নিয়ত করি এমন সালাতের যা আল্লাহ্র নিকটে গ্রহণযোগ্য হবার দাবীতে
অগ্রণী। তাকবীরে তাহরীমায় হারাম করি দুনিয়ার সবকিছু- সকল খেয়াল নিমগ্ন করি এক আল্লাহ্র প্রতি, যিনি রয়েছেন আপনার সম্মুখেই, যিনি দেখছেন আপনার যান্ত্রিকতামুক্ত আন্তরিকতা।

এরপর সরাসরি চলে যাই আল্লাহ্র অভেদ্য আশ্রয়ে- বিতাড়িত শয়তান হতে। আল্লাহ্র নামে শুরু করি যিনি রহমান, রহিম।

আসুন, আমরা আমাদের গুনাহের মধ্যে এমন দূরত্ব করে নিই, যেমন দূরত্ব আছে পূর্ব আর পশ্চিমের মধ্যে।

পাপ সমূহ এমন ভাবে নিংড়ে নিই, যেমন করে ময়লা কাপড় সমূহ হতে নোংরা নিংড়ে নেওয়া হয়। আমরা আমাদের গুনাগুলিকে বিধৌত করি পানি দ্বারা, বরফ ও শিলাবৃষ্টি দ্বারা। হ্যাঁ, তিনিই এগুলি শিখিয়েছেন, যিনি এগুলি দিতে চান।

অতএব আর দেরী নয়-
আল্লাহ্'র প্রশংসা করি- রহমান, রহিম বিশ্বচরাচরের প্রতিপালক,বিচার দিবসের মালিক যিনি। ঘোষণা করি তাওহীদ এ ইবাদতের। অতঃপর চেয়ে নিই সীরাত্ব এ মুস্তাকীম- সেই পথ যে পথ সলেহীনদের, অভিশপ্ত ও গযবপ্রাপ্তদের পথ হতে পানাহ চাই।

এরপর একে একে সালাতের সকল আরকান আহকামের প্রতি সুবিচার করে বিনয় ও নম্রতাকে সাথী করে তাসলীমের মাধ্যমে সালাত সম্পাদন করি।

আসুন, সালাত আদায় করি- যান্ত্রিক নয়, আন্তরিক ভাবে।
Share To:

A-TechBD

Post A Comment:

0 comments so far,add yours