❈❶. আইনের শাসন না থাকা।

❈ ❷. নারীর অশালীন পোশাক

❈ ❸. পুরুষের মানসিক ও নৈতিকতার অবক্ষয়।

❈ ❶. আইনের শাসনঃ
আমার দুঃখ হয়, যেই দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরধী দলিও নেত্রী নারী, জাতীয় সংসদের স্পিকার নারী ... ,, নারী নীতিসহ অসংখ্য আইন ও সুবিধা নারীর পক্ষেই কথা বলে, সেই দেশে প্রতিদিন প্রতি মূহুর্তে বিরামহীন ভাবে একটার পর একটা নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে, অথচ একটা ধর্ষক ও উপযুক্ত সাস্তি পাচ্ছে না .... !!

➾ যেই দেশে একজন বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রীর প্রতি অন্যায় অবিচার করুক বা না করুক স্ত্রী চাইলে আইনের সহায়তায় স্বামির ১২টা বাজিয়ে ছেড়ে দিতে পারে। সেই দেশের আইন আদালত পুলিশ প্রশাসন ধর্ষণ প্রসঙ্গে এতটা নিশ্চুপ কেন !?! জাতীর প্রশ্ন ??

➾ একটা বা দুইটা ধর্ষক কে যদি শিরোচ্ছেদ করা হতো কিংবা কোমড় পর্যন্ত মাটিতে পুতে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা হতো অথবা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে মৃত্যু দন্ড কার্যকর করা হতো .... ,, বাংলার মাটি থেকে ধর্ষণ নামক শব্দটি চিরতরে মুছে যেত। আমি মনে করি ধর্ষণের অন্যতম প্রধান কারন হচ্ছে, আইনের বাস্তবায়ন না থাকা।

❈ ❷. নারীর অশালিন পোশাকঃ
যখন কোন অশালীন ও যৌন উত্তেজোক পোশাক পরিহিতা যুবতী মেয়েদের দেখে যুবকদের যৌন উত্তেজনা বেড়ে যায়, তখন ইচ্ছে হলেই ঐ মেয়ের সাথে দৈহিক সম্পর্কে মিলিত হওয়া সম্ভব নয়। তাই উত্তেজনা মেটাতে বিকল্প পন্থা হিসেবে বেছে নেয় একজন পর্দানশীল নারী ও শিশুকে, দুধের সাধ ঘোলে মেটানোর মত। একটু ভাবলেই বুঝা যায় এখানে ও বেপর্দা ও অশালীন পোশাক পরিহিতা নারীর বলির শিকার হলো পর্দানশীল একজন নারী বা শিশু।

➾ (ক) পর্দানশীল নারী ও শিশু, এরা হচ্ছে স্বাভাবিক সুন্দর রাস্তার মত ত্রুটি মুক্ত।
(খ) বেপর্দা ও অশালীন পোশাক পরিহিতা নারী, এরা হচ্ছে পিচ্ছিল রাস্তার মত।
(গ) চরিত্রবান পুরুষ, এরা হচ্ছে সুস্থ সবল পথিকের মত।
(ঘ) চরিত্রহীন পুরুষ, এরা হচ্ছে প্রতিবন্ধী/পঙ্গু পথিকের মত।

➾ স্বাভাবিক রাস্তা/পর্দানশীল নারী ও শিশুঃ একজন সুস্থ সবল পথিক যেমন স্বাভাবিক রাস্তায় হোচঠ খায় না তেমনি চরিত্রবান পুরুষেরা কখনো পর্দানশীল নারী ও শিশুদের প্রতি কু-দৃষ্টিতে তাকায় না। প্রতিবন্ধী/পঙ্গুদের জন্য যেমন স্বাভাবিক রাস্তাও নিরাপদ নয় সেখানে ও যেমন হোচঠ খাওয়াটা অস্বাভাবি নয়। তেমনি চরিত্রহীন লম্পটদের কাছে পর্দানশীল নারী ও শিশুরা ও নিরাপদ নয়, এরা ও যৌন লালসার শিকার হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

➾ পিচ্ছিল রাস্তা/বেপর্দার নারীঃ এই রাস্তায় সুস্থ সবল পথিক এবং প্রতিবন্ধী/পঙ্গু উভয়েরি হোচঠ খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে প্রতিবন্ধী/পঙ্গুদের জন্য সম্ভাবনা অনেক গুন বেড়ে যায়। চরিত্রহীন প্রতিবন্ধী/পঙ্গু পুরুষ যদি দেখা পায় পিচ্ছিল রাস্তার মত অশালীন পোশাক পরিহিতা আবেদনময়ী নারীর তাহলে তো কোন কথাই নাই। শুধু ফেসবুকের চমক আর সংবাদ পত্রের শিরোনাম ও হেড লাইনের আবিস্কার। এটাই বাস্তব সত্য, পিচ্ছিল রাস্তায় হোচঠ খেয়ে পড়ে গেলে কেউ কখনো পথিকের দোষ দেয় না, সকলে রাস্তারি দোষ দেয়। একজন নারীও যদি রাস্তার মধ্যে পাছাড় খেয়ে পড়ে যায় সেও নিজের কোথায় লেগেছে সেইটা দেখার আগে খুজে রাস্তার দোষ অর্থাৎ রাস্তার মধ্যে খুটা গর্থ বা পিচ্ছিল কি না।

❈ ❸. পুরুষের মানসিক ও নৈতিকতার অবক্ষয়ঃ
অশালীন পোশাক পরিহিতা একটি মেয়ে যখন রাস্তা দিয়ে হেটে যায় হাজার হাজার পুরুষ মানুষ তাকে দেখতে পায় কিন্ত সবাই তো ধর্ষণ করে না, ধর্ষন করে মাত্র দু'একজনে। পুরুষের মানসিক ও নৈতিকতা যদি দায়ী না হতো, একতরফা নারীর অশালীন পোশাক-ই দায়ী হতো তাহলে হাজার বা লাখে দু'একজনে ধর্ষণ করতো না প্রত্যেকটি পুরুষ মানুষেই ধর্ষণ করতো। অশালীন পোশাক পড়া মেয়েটি সর্বপ্রথম যার সামনে পড়তো সেই ধর্ষন করতো।

➾ আজকে যে সকল পুরুষেরা নারীর অশালীন পোশাক ও ধর্ষণ প্রসঙ্গে কথা বলছেন, কই আপনার চোখের সামনে দিয়ে ও তো প্রতিদিন অশালীন পোশাক পরিহিতা কত নারী হেটে যাচ্ছে আপনিতো ধর্ষন করছেন না, কিন্তু কেউ না কেউ ঠিকই ধর্ষণ করছে। এখানেই তো আপনার আর একটা ধর্ষকের মধ্যে মানসিক ও নৈতিকতার পার্থক্য রয়েছে। এটাই প্রমান করে ধর্ষণের জন্য একতরফা নারীর অশালীন পোশাক-ই দায়ী নয়, পুরুষের মানসিক ও নৈতিকতাও দায়ী।

❈❈ উপসংহারঃ নারীর জন্য যেমন পর্দা ফরজ করা হয়েছে তেমনি পুরুষের ও দৃষ্টি সংযোত রাখতে বলা হয়েছে। অন্যের কাধে দোষ চাপিয়ে নিজের দায় এড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। নারী পুরুষ সকলকেই বুজতে হবে আমার জান্নাত জাহান্নাম কারো কর্ম বা পাপ পূণ্যের উপর নির্ভর করে না, আমার জান্নাত জাহান্নাম আমার কর্ম এবং পাপ পূন্যের উপর-ই নির্ভর করে। সূতরাং কে অশালীন পোশাক পড়লো না লেংটা থাকলো, কে ধর্ষণ করলো না নেশা করলো, ভালো করলো না মন্দ করলো সেটা আমার কাছে বড় নয়। বরং আমি কি করলাম সেটাই আমার কাছে বড়।

--- নাইম হোসেন

সংকলনে...এম, রহমান।
Share To:

A-TechBD

Post A Comment:

0 comments so far,add yours