লবার্ট আইন্সটাইনের পর পৃথিবীতে সবচাইতে বড় পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে যাকে আজ অবধি মানা হয়, তিনি হচ্ছেন স্টিফেন হকিং। তবে পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিতি ঠিক যখন থেকে তিনি সারা বিশ্বে পেতে শুরু করেন ততদিনে মোটর নিউরন ব্যাধির আক্রান্ত হয়ে তিনি হুইল চেয়ারে বসে গিয়েছেন সারা জীবনের জন্যে।

মাত্র ২১ বছর বয়সে এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হলেও সে রোগ নিয়ে তিনি বেঁচে ছিলেন আরো ৫২ টি বছর , যেখানে এ রোগ নিয়ে ১০ বছরের বেশী বাঁচতে দেখা যায় শতকরা মাত্র ১০ শতাংশ মানুষকে...



কিন্তু তিনি কেবল তার হুইল চেয়ারকেই শুধুমাত্র তার বাসস্থান বলে মেনে নেননি। হুইল চেয়ারে বসেও তিনি চষে বেড়িয়েছেন পুরো মহাবিশ্ব। দিয়েছেন সিঙ্গুরাটি (বিগ ব্যাং) থিওরীর সহজ ব্যাখ্যা । এবং সেটিই ৭০ এর দশকে তার দিকে সারা পৃথিবীর অন্য সুস্থ্য সবল বাঘা বাঘা পদার্থবিজ্ঞানীদেরও ভুরু কুঁচকে তাকাতে বাধ্য করে।


তার ঠিক চার বছর পরই তিনি জোতির্বিদ্যায়  দিলেন ব্লাক হোল নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা । কোয়ান্টাম থিওরী প্রয়োগ করে প্রমাণ করেছেন যে ব্লাক হোলের মত শক্তিধর কিছুও একটি সময়ে কিভাবে তাপ বিকিরন করে অদৃশ্য হয়।

এছাড়াও তিনি কাজ করেছেন কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন, কজমিক ইনফ্লেশন, ওয়ার্মহোল সম্পর্কিত জোতির্বিজ্ঞানের বহুল আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে।

স্টিফেন হকিং আলোচনার তুঙ্গে আসেন "এ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম" গ্রন্থটি রচনা করে। আশির দশকের শেষদিকে বইটি যখন প্রকাশিত হয়, সারা বিশ্বে বিজ্ঞানপ্রেমীদের মহলে রীতিমত বইটি নিয়ে হইচই পড়ে যায়। টানা ২৩৭ সপ্তাহ সানডে টাইম বেস্ট সেলার থাকার কারনে গিনেজ বুকে এখনো সেটি ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হিসেবে রয়েছে..

পৃথিবীতে অনেক পদার্থবিজ্ঞানী হয়তো আসবেন। তবে টমাস আলভা এডিসন, আলবার্ট আইন্সটাইন, কিংবা স্টিফেন হকিং এর মত এ শতাব্দিতে হয়তো কেউ আসবে না। কারন এডিসন আইন্সটাইন কিংবা হকিংরা আসেন শতাব্দিতে খুব গুটিকয়েক সংখ্যায়...

এডিসন কিংবা আইন্সটাইন বহু আগেই আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছেন। দীর্ঘ ৫২ টি বছর হুইল চেয়ারে বসে থাকতে থাকতে আজ ১৪ মার্চ ২০১৮ তে স্টিফেন হকিংও সে পথের পথযাত্রী হলেন...

শেষে একটি কাকতালীয় ব্যাপার বলে যাই। আজ ১৪ ই মার্চ। আজ যেমন স্টিফেন হকিং এর মৃত্যুদিন, ঠিক তেমনি পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইন্সটাইনের জন্মদিন। ঠিক তেমনি আবার আজ হচ্ছে পাই ( π ) দিবস  । পাই দিবস হিসেবে এই দিনটিকে বেছে নেয়ার পেছনে একটি কারন রয়েছে। আমরা সবাই জানি যে π এর মান সর্বদা ৩.১৪.... ।





ছবিঃ ফেইসবুক

আমরা যদি কখনো কোন তারিখ লিখতে যাই, তবে সর্বপ্রথম তারিখটা লিখি, তারপরে লিখি মাস, এরপর বছর। অর্থাৎ , আমাদের নিয়মানুযায়ী আজকের তারিখ আমরা লিখি এভাবে.. ১৪.৩.২০১৮ । কিন্তু ইংরেজি তারিখ লিখার ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বে সর্বদা মাস আগে লিখা হয়ে থাকে, তারিখ লিখা হয় তারপর। সে হিসেবে আজকের তারিখটিকে তাদের নিয়ম অনুযায়ী লিখা যায় ৩.১৪.২০১৮ । এখন শেষের দিকের সালটুকু যদি আমরা লিখার সময় বাদ দিই, তবে সেটি দাঁড়ায় ৩.১৪.. যা π এর মান..  ।

পাই দিবস হিসেবে এ দিনটিকে চিহ্নিত করার কারন মূলত এটুকুই.. 


বিজ্ঞানের সাথে এতটা নিবিড় সম্পর্ক এবং টান থাকার কারনেই  এই প্রতিতাভান বিজ্ঞানী এবং লেখক ঠিক এরকম একটি দিনেই মৃত্যু বরন করেছেন  কিনা আমাদের কারো জানা নেই...

শুধু এটুকু জানি.. পৃথিবী কিছু একটা হারিয়েছে। যে হারানো জিনিসটি যেকোন কিছুর বিনিময়েই অপূরণযোগ্য..

যে মহান বিজ্ঞানীটি আজ পৃথিবী ছেড়েছেন.. তার প্রতিও শুভকামনা.

মনির হোসেন


Share To:

A-TechBD

Post A Comment:

0 comments so far,add yours